শিশুর মানসিক বিকাশে বইপড়ার গুরুত্ব কতটুকু?
শিশুর মানসিক বিকাশে বইপড়ার গুরুত্ব কতটুকু?
মানুষের মনোঃজগতকে জ্ঞানে এবং তথ্যে বিকশিত করার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। বইপড়াকে কেন এত
গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে? চিন্তা করে দেখুন আপনি হয়তো বাংলাদেশে বসবাস করেন, আপনার সময় এবং
অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে সারা পৃথিবীর সব স্থান ,সংস্কৃতি সম্পর্কে এক জীবনে জানা সম্ভব নয়।
আবার চিন্তা করুন একজন মানুষ যে হয়তো কোন একটা বিষয় নিয়ে গবেষণা করে তার পুরো জীবন পার করে
ফেলেছে। এই দুইটা বিষয়ে জানতে হলে আপনাকে হয় সারা পৃথিবী ঘুরতে হবে অথবা ঐ ব্যক্তির মতো এক
জীবন লাগবে। কিন্তু বই হলো এমন একটি মাধ্যম যেটার মাধ্যমে মুহুর্তেই আপনি পৃথিবীর যেকোন দেশে
চলে যেতে পারবেন। পারবেন সেইসব দেশের সমাজ, ইতিহাস এবং ভৌগোলিক বিভিন্ন বিষয় জানতে। আবার
বই পড়ে একটা মানুষের সারা জীবনের অভিজ্ঞতা আপনি কয়েক দিনের মধ্যেই পড়ে ফেলতে পারবেন। যেটা
করতে ঐ ব্যক্তি পুরো জীবন কাটিয়ে ফেলেছে।
[quote text_size=”big”]
বলা হয়ে থাকে শিশুরা কাদা মাটির মতো। জন্মের পর তাদেরকে আপনি যা শিখাবেন, সেটা হতে পারে কথা
বলা, গান গাওয়া, কবিতা পড়া অথবা অভিনয় করা, সেটা সে অনুকরণ করার চেষ্টা করবে।
শিশুদের মানসিক বিকাশে বইপড়ার কোন বিকল্প নেই।
[/quote]
এটা নিয়ে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে, যা থেকে জানা যায় শিশুর কোমল এবং পরিচ্ছন্ন মস্তিস্কে বইপড়ার প্রভাব অসীম। তাই শিশুদেরকে অত্যন্ত ছোট বয়স
থেকেই বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা প্রত্যেক বাবা-মা এবং শিক্ষকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বইপড়া একটি শিশুর চারত্রিক, সামাজিক, এবং পরিণত বয়সে কর্ম জীবনে কত বিশাল প্রভাব রাখে এ
বিষয়ে আমরা কিছু তথ্য জানানোর চেষ্টা করছি। যা একজন পিতা-মাতা, অভিভাবক অথবা শিক্ষক হিসেবে
শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
শিশুরা কেন বই পড়বে?
প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলেকোঠায় বসবাস করবো তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালোবাসে
না।– জন মেকলে
শিশুদের বইপড়ার গুরুত্বকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। বইপড়া একটি শিশুর শিক্ষাগত, সামাজিক,
বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে, এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
গবেষণা কী বলে?
বুকট্রাস্ট নামক ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থার অসংখ্য গবেষণা থেকে জানা যায় শিশুদের বিকাশে বইপড়ার
গুরুত্ব অসীম। অপর একটি গবেষণায় পরবর্তী জীবনে শিক্ষাগত দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ সহজ করা,
এবং পুরো দুনিয়ার সাথে যুক্ত হতে বইপড়ার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এই গবেষণায় এটাও বলা
হয়েছে কিভাবে বই একটি শিশুর সারাজীবনের ‘স্থায়ী তথ্যের ভান্ডার’ গড়ে তুলে। এই তথ্যভান্ডার অবচেতন
মনে থেকে একটি মানুষকে সারাজীবন বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে।
শিশুর জীবন পরিবর্তনকারী বই
বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নঃ বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বলতে বুঝায়, কিভাবে আমরা আমদের জ্ঞান, যুক্তি, ভাষাগত
দক্ষতা এবং অর্জিত অন্যান্য তথ্য কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিষয় বুঝি এবং চিন্তা করি। আমরা যখন একটি
শিশুকে বই পড়াই, এই জ্ঞান তাকে যেকোন বিষয়ে গভীরভাবে এবং ভিন্নভাবে ভাবতে শিখায়। তারা যা দেখে,
শুনে, এবং পড়ে তা বুঝার জন্য অবচেতনে বইয়ের ঐ জ্ঞান ব্যবহার করে, যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে
সহায়তা করে।
সহমর্মি মানুষ গঠনেঃ যখন আমরা একটি বই পড়ি, আমরা নিজেদেরকে গল্পের ঐ চরিত্রগুলোর মধ্যে
খুঁজি। অন্য মানুষের জীবন সম্পর্কে এটা আমাদের সহমর্মি হতে এবং তারা কেমন বোধ করছে সেটা বুঝতে
সহায়তা করে। বাচ্চারা পরবর্তীতে এই জ্ঞান ব্যবহার করে বাস্তব জগতের মানুষদের প্রতি সহমর্মি হয়।
বইয়ের গল্পগুলো শিশুদেরকে মানবিক অনুভূতির বিষয়ে অনেক জ্ঞান দান করে, যা তাদের নিজেদের আবেগ
নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদের আবেগ বুঝতে সাহায্য করে। এটা তাদের সামাজিক জ্ঞান অর্জনেও সাহায্য
করে।
অন্তর্দৃষ্টি গঠনেঃ বই পড়ে একজন মানুষ যেকোন জায়গায় ঘুরে আসতে পারে; অন্য কোন শহরে, অন্য
কোন দেশে, এমনকি ভিনগ্রহে পর্যন্ত। বই পড়ে একটি শিশু বিভিন্ন ধরণের মানুষ, স্থান এবং ঘটনা
সম্পর্কে জানতে পারে যা অন্য কোনভাবে তার পক্ষে জানা সম্ভব হত না। এটা তাদেরকে সারা পৃথিবীর
নানান সংস্কৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিয়ে থাকে।
দৃঢ় সম্পর্ক গঠনেঃ কোন বাবা-মা যদি নিয়মিত তাদের বাচ্চাকে বই পড়ে শোনান, নিঃসন্দেহে এটা তাদের
পারস্পরিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে। বই পড়া সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের একটি নিয়মিত সুন্দর সময়
কাটানোর সুযোগ করে দেয়, বর্তমানের ডিজিটাল যুগে যা পাওয়া কঠিন বিষয়।
নিয়মিত বইপড়া শিশুদের মনোযোগ, ভালোবাসা এবং মানুষের প্রতি আস্থাশীল করে, যা শিশুর মানসিক
স্বাস্থ্য এবং বেড়ে ওঠার জন্য খুবই জরুরী।
তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতেঃ শিশুরা বই পড়ার মাধ্যমে জানতে পারে চরিত্রগুলো বিশেষ পরিস্তিতিগুলো
কিভাবে সামাল দিয়ে থাকে। একটা শিশুর পক্ষে কখনই জীবনের সব পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নেয়া সম্ভব
নয়। কিন্তু বই পড়ে তারা এই জ্ঞান লাভ করতে পারে। যা তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক
জীবনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
শিশুকে বই পড়ে শোনান খুব ছোট বয়স থেকেই
শিক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধিতেঃ অত্যন্ত ছোটবেলায় শিশুদের জোরে জোরে বই পড়ে শুনানো, এমনকি আপনি কি
বলছেন সেটা যদি তারা নাও বুঝে, পরবর্তীতে যখন তারা বইপড়া শিখে ফেলে সেই সময়ের জন্য প্রাথমিক
জ্ঞান দিয়ে আগাম প্রস্তুত করে রাখে। শিশুরা এটা বুঝতে শিখে পড়তে হলে বাম থেকে ডানে মনোযোগ
রাখতে হয় এবং ক্রমাগত বইয়ের পাতা উল্টাতে হয়। শিশুর জন্মের একদম শুরুর মাস গুলোতে বই পড়ে
শোনালে এটা তাদের দ্রুত ভাষা শিখতে এবং মস্তিস্কের যে অংশ আমাদের ভাষা প্রক্রিয়াকরণে কাজ করে
সেই অংশকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে।
শব্দভান্ডারের ব্যাপকতা বৃদ্ধিঃ বইয়ের শব্দগুলো জোরে জোরে পড়ে শোনালে শিশুরা এমনসব শব্দ এবং
কথা শুনে যা তারা হয়তো সাধারণভাবে শুনতে পারত না। একটি শিশুকে প্রতিদিন বই পড়ে শুনানো ধীরে ধীরে
তার শব্দভান্ডার বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
মনোযোগ বৃদ্ধিতেঃ নিয়মিত এবং ধারাবাহিক বইপড়া একটি শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটা
শিশুকে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে গড়ে তুলবে। যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় এবং বাস্তব জীবনে
ভালো মানুষ হতে সহায়তা করবে।
সৃষ্টিশীলতা এবং কল্পনাশক্তির উন্নতিঃ একটা বই পড়ার সময় আমরা আমাদের কল্পনাশক্তি দিয়ে
চরিত্রগুলোকে আঁকি, তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের চিত্রায়ন করি, এবং পরবর্তিতে কী ঘটতে যাচ্ছে
সেটা অনুমান করি। অন্য মানুষ, স্থান, কাল এবং ঘটনা সম্পর্কে জানতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই
আমাদের কল্পনাশক্তির ব্যবহার করতে হয়। এই কল্পনাশক্তি শিশুদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে
সৃষ্টিশীল করে তোলে যা যেকোন কাজের সময় তাদের মাথায় অবচেতনে থাকে।
পরিশেষে, একটি শিশুকে যত বেশি পড়ে শুনানো হবে, যত বেশি সে নিজে পড়বে তত বেশি সে পড়াশোনায় দক্ষ
হয়ে উঠবে। অনুশীলন সত্যিকার অর্থেই যেকোন বিষয়ে একজন মানুষকে পারদর্শী করে তোলে এবং একটি
শিশু যত বেশি পড়বে ততবেশি সে তার শিক্ষা, সহমর্মিতা এবং অন্য মানুষের সাথে সহজে মিশে যেতে পারবে।
বাবা-মায়েরই দায়িত্ব বেশি
বাবা-মায়েরা শিশুদের সাথে বাড়িতে বই পড়ার মাধ্যমে তাদের শ্রেনীকক্ষের পড়ায় বাড়তি সহযোগীতা করা
পাশাপাশি বই পড়ে তার পড়ার একঘেয়ামি দূর করছেন যা শিশুর কাছে বিনোদনের মত কাজ করে। আপনার
শিশুকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে পারেন
শিশুর কচি বয়সেই শুরু করুনঃ একদম কোলের শিশুও আপনার কথা শুনতে পারে এবং ছবি দেখে আনন্দ পায়।
বইয়ের ছবিগুলোর নাম শব্দ করে আপনার শিশুকে পড়ে শুনান। এটা আপনার শিশুকে দুইটা বিষয় সম্পর্কে
অবগত করে, একটা হলো বাস্তব দুনিয়ার বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে এবং সেগুলোকে কিভাবে ভাষায় প্রকাশ
করতে হয়। আপনার শিশু পড়া শিখে ফেলার পরও তাকে মাঝে মাঝে শব্দ করে অভিনয় করে পড়ে শুনান।
এটাকে আপনার প্রাত্যহিক কাজের অংশ করে ফেলুনঃ আপনার শিশুকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় বই
পড়ে শুনানোর চেষ্টা করুন। বইপড়াকে প্রতিদিনের কাজের অংশ করে ফেলুন, যতদিন না এটা তার কাছে
প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার মতো অভ্যাসে পরিণত হয়। মাঝে মাঝে দুয়েকদিন বিরতি পড়লে হাল ছেড়ে দিবেন
না, যখন আবার সময় পাবেন আবার পড়া শুরু করুন।
বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করুনঃ চেষ্টা করুন আপনার শিশুকে যত বেশি সম্ভব বিচিত্র বিষয়ের বই পড়াতে।
এটা বিভিন্ন ধরণের মানুষ, দেশ, সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের অন্তর্দৃষ্টির বিস্তার ঘটাবে এবং তাদের
কল্পনাশক্তি দিয়ে নতুন নতুন বিষয়ে ভাবার খোরাক যোগাবে।
ধৈর্য্য রাখুনঃ পরিণত বয়সে অনেক সময় আমরা ভুলে যাই শিশু অবস্থায় আমরা কেমন ছিলাম। প্রাপ্ত
বয়স্ক হিসেবে বইপড়া আমাদের জন্য খবুই স্বাভাবিক একটা বিষয়, কিন্তু আমরা যদি একটু ভাবি যে
একটা শিশুর জন্য এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা তাহলে শিশুদের মানসিক অবস্থা বুঝা সহজ হয়ে যাবে।
উদাহরনস্বরূপ বলা যায় আমরা যদি একটি শিশুকে হাতে ধরে না দেখাই, তাহলে সে কিভাবে জানবে যে বাম
থেকে ডানে পড়ে যেতে হয়? তারা কিভাবে বুঝবে যে বইয়ের পাতার হিজিবিজি দাগগুলো যে একেকটা শব্দ?
সময় নিন এবং আপনার শিশু না বুঝলে ধৈর্য্য সহকারে তাকে বোঝান।
কথা চালিয়ে যানঃ আপনার শিশুকে একটা গল্প পড়ে শুনানোর পর সেটা আরো কিছুক্ষণ আলোচনার মাধ্যমে
চালিয়ে যান। তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি পড়লো। যেমন আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন “গল্পটা কি তোমার
ভালো লেগেছে?” “কোন চরিত্রটা তোমার বেশি ভালো লেগেছে?” “রাজপুত্র কেন গল্পের শেষে খুশি হলো?”
যাইহোক সব গল্পের ক্ষেত্রেই এমনটা না করলেও চলবে। আপনার শিশু যদি গল্পটা পছন্দ করে, এটা তা্কে
বইপড়ার প্রতি আগ্রহী করবে, এমনকি পরবর্তী আলোচনা ছাড়াই।
একজন বইপ্রেমী শিক্ষক হাজারো পাঠক তৈরির কারিগর
একজন শিক্ষক হিসেবে শ্রেনীকক্ষে পড়ে শুনানো আপনার দ্বিতীয় পছন্দের কাজ হবে হয়তো। কিন্তু
আপনার ক্লাসে এমন ছাত্রও থাকতে পারে যারা বাসায় গিয়ে পড়তে চায় না, বরং শ্রেনীকক্ষে বসে পড়াটা
বেশি উপভোগ করে। এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তাদের বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাদেরকে
বইপড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝান।
শিশুকে বইপড়ায় উৎসাহী করতে শিক্ষক হিসেবে নিচের কাজগুলোও করতে পারেন
একটি সাময়িকপত্র বিলি করুনঃ আপনি একটি পাক্ষিক অথবা মাসিক সাময়িকী প্রকাশ করতে পারেন
যেটাতে লেখা থাকবে ১৫ দিনে অথবা মাসে আপনার ক্লাসে কী কী পড়ানো হয়েছে। এরপর বাবা-মাকে কিছু
পরামর্শ দিতে পারেন কিভাবে তারা বাড়িতে এটা চালিয়ে যাবেন। ধরুন আপনি শিশুদের ইতিহাস নিয়ে
পড়িয়েছিলেন, আপনি তাদেরকে অন্যান্য ইতিহাসের বইয়ের নাম দিতে পারেন যেগুলো তারা বাসায় বাচ্চাদের
পড়াবেন।
একটি পাঠচক্র চালু করতে পারেনঃ আপনার যদি সময় থাকে স্কুলে অথবা বাইরে একটি পাঠচক্র চালু
করতে পারেন। যেটাতে ছাত্ররা সদস্য হবে। এরপর আপনার ছাত্রদের কিছু বই পড়ার পরামর্শ দিতে পারেন
সেগুলো তারা স্কুলের ছুটির দিনগুলোতে পড়বে। সপ্তাহের একটি দিন তাদের অনুভূতি জানুন। বইগুলো পরে
তাদের কেমন লেগেছে, কেন ভালো লেগেছে ইত্যাদি। এটা তাদের মধ্যে বই পড়ার একটা সুন্দর অভ্যাস গড়ে
তুলবে।
শিশুদের স্বেচ্ছাসেবায় সংযুক্ত করুনঃ আপনার কোমলমতি ছাত্রদের জানান বইপড়া খুবই মূল্যবান এবং
আনন্দদায়ক একটি কাজ। তাদেরকে বলুন কিছু পোস্টার বানাতে, যা অন্যদেরও বই পড়তে উৎসাহ দিবে
অথবা একটি খোলা বোর্ড লাগান যেখানে আপনার ছাত্ররা লিখবে কোন বইটি তাদের প্রিয় এবং কেন প্রিয়
ইত্যাদি। এগুলো বইপড়ার প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়াবে এবং বাড়িতে বই পড়তে আগ্রহী করে তুলবে।
নিজেই হোন উদাহরণঃ আপনার ছাত্রদের জানান আপনি বই পড়েন এবং আপনি এটাতে কত আনন্দ পান!
সাম্প্রতিক পড়া আপনার কোন বই অথবা আপনার প্রিয় বই নিয়ে তাদের সাথে কথা বলুন। আপনার ছাত্ররা
যখন ক্লাসে নীরবে লিখে তখন আপনি একটি বই পড়তে পারেন। এটা আপনার ছাত্রদের বই পড়াতে
অনুপ্রাণিত করবে। সবশেষে, বাবা-মায়েদের সাথে কথা বলুন এবং তাদেরকেও বাড়িতে এই কাজগুলো করার
পরামর্শ দিন।
বই শুধু একাকী জীবনের বন্ধুই নয়, এটি একটি শিশুর একান্ত শিক্ষক হিসেবে তাদেরকে নিজেদের বিষয়ে,
বিশ্ব এবং এর বৈচিত্রময় সংস্কৃতির বিষয়ে জ্ঞান দান করে। বাচ্চাদের সাথে বইপড়ার অসংখ্য
উপকারিতা রয়েছে, সব শিক্ষক এবং পিতামাতারই উচিত সচেতনভাবেই এটাকে উৎসাহিত করা।
